ফিলিপাইন ট্যুর-Philippines Tour Guide
ঢাকা থেকে ফিলিপাইন ট্যুর সম্পূর্ণ গাইডলাইন
সূচিপত্র
স্বাগতম সবাইকে!
ফিলিপাইন, এশিয়ার একটি দ্বীপপুঞ্জের দেশ, যা তার সুন্দর সমুদ্র সৈকত, প্রাচীন ঐতিহ্য এবং স্থানীয় জনসংখ্যার উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য পরিচিত। ৭,৬৪১টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত এই দেশটি আপনাকে অফুরন্ত ভ্রমণ অভিজ্ঞতা এবং দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য উপহার দিতে প্রস্তুত।
(Philippines Tour Guide & Best Tour Plan)
আপনাকে আমাদের ব্লগে স্বাগত জানাই, এবং আশা করছি আপনি Philippines Tour এর এই রোমাঞ্চকর ও বিস্ময়কর ব্লগের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করবেন!
Philippines Tour Dhaka to Philippines Dhaka to Manila
**ফিলিপাইনে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সংস্কৃতির একটি মিশ্রণ**
দর্শনীয় স্থান
মানিলা: ফিলিপাইনের রাজধানী এবং সবচেয়ে বড় শহর, যেখানে আপনি স্প্যানিশ ঔপনিবেশিক স্থাপত্য, মিউজিয়াম এবং আধুনিক জীবনধারা উপভোগ করতে পারেন। ইন্ট্রামুরোস, রিজাল পার্ক, এবং ম্যানিলা ওশেন পার্ক এই শহরের প্রধান আকর্ষণ।
বোরাকাই: বিশ্বের অন্যতম সুন্দর সমুদ্র সৈকতের জন্য বিখ্যাত। এর সাদা বালির সৈকত এবং ফিরোজা-নীল পানির জন্য বোরাকাই বিখ্যাত। এখানে আপনি স্কুবা ডাইভিং, প্যারা সাইলিং, এবং স্নরকেলিং-এর মতো বিভিন্ন পানির খেলা উপভোগ করতে পারেন।
পালাওয়ান: ফিলিপাইনের সবচেয়ে সুন্দর এবং প্রাকৃতিকভাবে অক্ষত দ্বীপগুলির একটি। এখানে এল নিদো এবং করন দ্বীপের মত মনোরম জায়গাগুলোতে প্রচুর লেগুন, গুহা, এবং সমুদ্রের নিচের জীববৈচিত্র্য দেখা যায়।
সেবু: ফিলিপাইনের একটি প্রাচীন শহর, যা তার সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত। মাগেলান্স ক্রস এবং সেবু টাওয়ার ভ্রমণকারীদের জন্য অবশ্যই দেখার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
ভিগান: ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত এই শহরটি তার স্প্যানিশ ঔপনিবেশিক স্থাপত্যের জন্য বিখ্যাত। ক্যাল্লে ক্রিসোলগো এর পাথরের রাস্তা এবং পুরনো স্থাপত্য ভ্রমণকারীদেরকে ঔপনিবেশিক যুগের অনুভূতি দেয়।
ভ্রমণের সময়কাল এবং ব্যয়
ফিলিপাইনে ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় সময়কাল এবং খরচ আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনার উপর নির্ভর করে। আপনি যদি শুধু প্রধান শহরগুলো ঘুরে দেখতে চান, তাহলে ৫-৭ দিনের একটি ট্রিপ যথেষ্ট হতে পারে। তবে, যদি আপনি বিভিন্ন দ্বীপ এবং দূরবর্তী এলাকায় ভ্রমণ করতে চান, তাহলে ১০-১৪ দিন বা তারও বেশি সময় নিয়ে আসা উচিত। দৈনিক খরচে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে:
আবাসন: ২০-১০০ USD (রিসোর্ট, হোটেল, হোস্টেল ভেদে)
খাবার: ৫-২০ মার্কিন ডলার (স্থানীয় খাবার থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক রেস্তোরাঁ পর্যন্ত)।
পরিবহন: ৫-৫০ USD (বাস, জিপনি, ট্রাইসাইকেল, প্রাইভেট ট্যাক্সি)
অ্যাক্টিভিটি: ১০-১০০ USD (স্কুবা ডাইভিং, ট্যুর, এবং অন্যান্য এক্টিভিটি)
কীভাবে পৌঁছাবেন?
ফিলিপাইনের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হল নিনয় অ্যাকুইনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (মানিলা), ক্লার্ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (পামপাঙ্গা), এবং মাকতান-সেবু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (সেবু)। ঢাকা থেকে ফিলিপাইনে সরাসরি কোন ফ্লাইট নেই শুধু সংযোগকারী ফ্লাইট পাওয়া যায়। ভ্রমণের সেরা সময় শীতকালে (নভেম্বর থেকে এপ্রিল), যখন আবহাওয়া শুষ্ক এবং আরামদায়ক থাকে।
স্থানীয় সংস্কৃতি ও আচার-ব্যবহার
ফিলিপাইনসের লোকেরা সাধারণত খুবই অতিথিপরায়ণ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ। স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা গুরুত্বপূর্ণ। কিছু টিপস:
ভাষা: স্থানীয় ভাষা তাগালগ, তবে এখানে ইংরেজির ব্যবহারও ব্যাপক।
খাদ্য: ফিলিপিনো খাদ্য বৈচিত্র্যময় এবং স্থানীয় স্বাদের মিশ্রণ, যা ভ্রমণকারীদের জন্য একটি অনন্য খাদ্য অভিজ্ঞতা এনে দেয়।
মুদ্রা: ফিলিপাইন পেসো (PHP)।
**ফিলিপাইনের ইতিহাস**
ফিলিপাইনের ঐতিহাসিক পটভূমি
ফিলিপাইনের ইতিহাস হাজার হাজার বছরের পুরনো। অস্ট্রোনেশীয় জনগোষ্ঠী দ্বারা প্রাচীন এই দ্বীপপুঞ্জে প্রথম মানব বসতি স্থাপিত হয়েছিল। পরবর্তীতে স্প্যানিশ ঔপনিবেশিক যুগে (১৫৬৫-১৮৯৮) দেশটি খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে এবং ম্যানিলা একটি প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর আমেরিকান এবং জাপানি শাসনের সময়কাল পেরিয়ে ১৯৪৬ সালে ফিলিপাইন পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে। এই দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসন এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের মাধ্যমে ফিলিপাইন তার বর্তমান সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক পরিচয় গড়ে তুলেছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের এক অপূর্ব মিশ্রণ
ফিলিপাইন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপ রাষ্ট্র, যা তার বিস্তৃত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, এবং সমৃদ্ধ ইতিহাসের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত। ৭,০০০ এরও বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত এই দেশটি পর্যটকদের জন্য এক চমৎকার গন্তব্য।
চলুন, ফিলিপাইনের কিছু বিশেষ দিক সম্পর্কে জেনে নিই।
ফিলিপাইনের সংস্কৃতি
ফিলিপাইনের সংস্কৃতি তার ঔপনিবেশিক ইতিহাসের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। এখানে খ্রিস্টধর্মের প্রচলন, স্প্যানিশ স্থাপত্য, এবং স্থানীয় সংস্কৃতির এক চমৎকার মিশ্রণ লক্ষ্য করা যায়। ফিলিপাইনের মানুষদের আতিথেয়তা এবং উষ্ণতা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। বিভিন্ন উৎসব, যেমন- সিনুলো, কিয়াম্বে, এবং পিনাতুবো ভলকানো ফেস্টিভ্যাল ফিলিপাইনের সংস্কৃতির বৈচিত্র্য প্রদর্শন করে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
ফিলিপাইন তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এখানে আপনি পাবেন সাদা বালুর সমুদ্র সৈকত, সুন্দর প্রবালপ্রাচীর, এবং গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জঙ্গল। কিছু জনপ্রিয় পর্যটন স্থান:
বোরাকাই: বিশ্বখ্যাত এই দ্বীপটি তার সাদা বালুর সমুদ্র সৈকত এবং আকর্ষণীয় নাইটলাইফের জন্য পরিচিত। এটি একটি জনপ্রিয় হানিমুন এবং পর্যটন গন্তব্য।
পালাওয়ান: পালাওয়ান দ্বীপপুঞ্জে আপনি পাবেন আন্ডারগ্রাউন্ড রিভার ন্যাশনাল পার্ক এবং এল নিডোর মতো অসাধারণ প্রকৃতি এবং স্নোরকেলিং এর জন্য আদর্শ স্থান।
সেবু: সেবু একটি ঐতিহাসিক দ্বীপ যা স্পেনীয়দের ফিলিপাইনে আগমনের প্রথম স্থান হিসেবে পরিচিত। এটি অ্যাডভেঞ্চার এবং ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য একটি দারুণ গন্তব্য।
বনসোল হিলস: বোহোল দ্বীপের এই অসংখ্য ছোট ছোট পাহাড় সমূহ পর্যটকদের মুগ্ধ করে। এটিকে “চকোলেট হিলস” বলা হয়, কারণ শুকনো মৌসুমে এই পাহাড়গুলো চকোলেট রঙ ধারণ করে।
ফিলিপাইনের খাবার
ফিলিপাইনের খাদ্যসংস্কৃতি অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। এখানে স্প্যানিশ, চীনা, এবং মালয়েশিয়ার খাবারের প্রভাব রয়েছে। কিছু জনপ্রিয় খাবার হল:
আদোবো: মুরগী বা শূকরের মাংস ভিনেগার, সয়া সস, এবং রসুন দিয়ে রান্না করা হয়। এটি ফিলিপাইনের জাতীয় খাবার হিসেবে পরিচিত।
লেচন: গোটা শূকর ভাজা, যা সাধারণত বিশেষ অনুষ্ঠানগুলিতে পরিবেশন করা হয়।
সিনিগাং: টক ও মশলাদার স্যুপ যা শাকসবজি এবং মাছ বা মাংস দিয়ে তৈরি করা হয়।
ভ্রমণ তথ্য
ফিলিপাইনে ভ্রমণ করার সেরা সময় হলো ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি, যখন আবহাওয়া শুষ্ক এবং আরামদায়ক থাকে। ভিসার প্রয়োজনীয়তা আপনার দেশের উপর নির্ভর করে। এখানে ইংরেজি একটি সরকারি ভাষা, যা পর্যটকদের জন্য যোগাযোগ সহজ করে দেয়। বিভিন্ন শহরে থাকার জন্য সব ধরণের ব্যবস্থা পাওয়া যায়, এবং স্থানীয় বাজার ও রেস্তোরাঁয় খাবারের দাম বেশ সাশ্রয়ী।
“RKS“
ফিলিপাইন সম্পূর্ণ ভ্রমনঃ ঢাকা থেকে ফিলিপাইন ভ্রমণের খরচ অনেকগুলো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে, যেমন ভ্রমণের সময়, ফ্লাইটের ধরন, থাকার ব্যবস্থা, খাবার, ঘোরার স্থান, এবং ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর।। আমি ২০২৩ এর নভেম্বার মাসে এই ভ্রমন সম্পূর্ণ করি । ঢাকা-ম্যানিলা-বোরাকাই-ম্যানিলা-ঢাকা ৫রাত ৬দিন এর মোট খরচ ছিল ১,২৫,০০০ টাকা (ভিসা সহ) কোন রকম ঝামেলা ছাড়া। আমি একটু বেশি খরচ করেছিলাম বাজেট ট্রাভেল করলে আরো কমে ট্যুর কমপ্লিট করতে পারবেন। আর লাক্সারি ট্যুর এর জন্য আপনার আনুমানিক ১,৫০,০০০ টাকাই যথেষ্ট। বাজেট ট্যুরের জন্য ১,১০,০০০-১,১৫,০০০ টাকাতেই সম্ভব (আমাদের টাকার মানের উপর নির্ভর করছে পরবর্তীতে কেমন খরচ হবে)।
ঢাকা থেকে ফিলিপাইন সম্পূর্ণ ট্যুর গাইডলাইন | Philippines Tour Guide.
বিস্তারিত জানতে সম্পূর্ণ ভিডিও দেখুন।By RKS
ফিলিপাইন ট্যুর ভিডিও - Philippines Tour Guide Video
কম খরচে ঢাকা থেকে ফিলিপাইন ট্যুরঃ
**৫ রাত ৬ দিনের ট্যুর প্লান**
ফিলিপাইন ট্যুরঃ ম্যানিলা ও বোরাকাই ৫ রাত ৬ দিনের আইটিনারি।
১ম দিন: ঢাকা থেকে ম্যানিলা।
ফিলিপাইন ভ্রমণের প্রথম দিনে ঢাকা থেকে ম্যানিলার জন্য ফ্লাইটে উঠুন। ম্যানিলা নিনয় অ্যাকুইনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরে, আপনার হোটেলে চেক-ইন করুন এবং কিছু সময়ের জন্য বিশ্রাম নিন।
এরপর সন্ধ্যায় ম্যানিলা শহর ঘুরে দেখুন। রিজাল পার্কে হাঁটাহাঁটি, ইন্ট্রামুরোসে ঐতিহাসিক স্থান দর্শন, এবং ম্যানিলা বে’তে সানসেট দেখুন।
রাত্রিযাপন: ম্যানিলার একটি ৩ বা ৪-তারা হোটেল অথবা হোস্টেলে।
২য় দিন: ম্যানিলা এক্সপ্লোরেশন দ্বিতীয় দিনটিতে, ম্যানিলার আরও কিছু ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক স্থান ঘুরে দেখুন। ম্যানিলার শহরজুড়ে ছড়িয়ে আছে বহু আকর্ষণীয় স্থান, যা আপনাকে এই শহরের সমৃদ্ধ ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত করবে।
সকাল: ফোর্ট সান্টিয়াগো-ফিলিপাইনের জাতীয় নায়ক, হোসে রিজালের জীবনের স্মৃতিবিজড়িত এই স্থানটি ঘুরে দেখুন। কাসা ম্যানিলা মিউজিয়াম: এই মিউজিয়ামটি স্প্যানিশ ঔপনিবেশিক আমলের ইতিহাস প্রদর্শন করে।
দুপুর: চায়নাটাউন (বিনোন্দো)-এখানকার স্থানীয় খাবারগুলি চেখে দেখুন এবং সস্তা দামে স্মৃতিচিহ্ন কিনুন।
বিকেল: মালাটে এলাকা-ফিলিপাইনের স্থানীয় মার্কেট এবং কফি শপগুলি ঘুরে দেখুন। ম্যানিলা ওশান পার্ক-একটুআরাম করার জন্য এই আকর্ষণীয় মেরিন পার্কটি পরিদর্শন করুন।
রাত্রিযাপন: আগের হোটেলেই থাকুন।
৩য় দিন: বোরাকাইয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা
তৃতীয় দিনে, ম্যানিলা থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে বোরাকাইয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দিন। বোরাকাই একটি জনপ্রিয় পর্যটন স্থান যা তার সাদা বালুর সমুদ্র সৈকত এবং নীল জলের জন্য বিখ্যাত।
সকাল: ফ্লাইট ম্যানিলা থেকে কাতিকলান: (প্রায় ১ ঘণ্টা) কাতিকলান থেকে বোটে বোরাকাই (প্রায় ২০ মিনিট)
দুপুর: হোটেলে চেক-ইন এবং কিছু সময়ের জন্য বিশ্রাম নিন।
বিকেল: হোয়াইট বিচ: সাঁতার কাটুন, সূর্যস্নান করুন এবং সন্ধ্যায় সৈকত ঘুরে দেখুন। ডি’মল মার্কেট: স্থানীয় স্মৃতিচিহ্ন কিনুন এবং স্থানীয় খাবার চেখে দেখুন
রাত্রিযাপন: বোরাকাইয়ের একটি রিসোর্টে।
৪র্থ দিন: বোরাকাই বিচ অ্যাক্টিভিটিজ। বোরাকাইয়ের বিভিন্ন সৈকত কার্যকলাপ এবং অ্যাডভেঞ্চারের জন্য উপযুক্ত।
সকাল: প্যারাসেইলিং এবং জেট স্কি: একটি দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা নিন এবং বোরাকাইয়ের অপূর্ব সৌন্দর্য উপভোগ করুন।
দুপুর: স্নোরকেলিং বা স্কুবা ডাইভিং: বোরাকাইয়ের কোরাল রিফ দেখুন এবং সাগরের নীচের জগতের অভিজ্ঞতা নিন।
বিকেল: সেইলিং ট্যুর: বোরাকাইয়ের চারপাশে একটি নৌকা ভ্রমণ করুন এবং সানসেট ক্রুজ উপভোগ করুন।
রাত্রিযাপন: আগের হোটেলেই থাকুন।
(আপনি যদি আগের দিনের ট্যুর প্যাকেজ ১৮০০-২৫০০ পেসোতে নিতে পারেন তবে সবচেয়ে ভাল)
৫ম দিন: বোরাকাইয়ে ফ্রি টাইম ও রিলাক্সেশন।
পঞ্চম দিনটি আরাম এবং রিলাক্সেশনের জন্য রাখুন। আপনি সৈকতে সময় কাটাতে পারেন, সুইমিং পুলে আরাম করতে পারেন, বা একটি স্পা অভিজ্ঞতা নিতে পারেন।
সকাল: বোরাকাইয়ের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান যেমন পুকা শেল বিচ, মাউন্ট লু, এবং ক্রিস্টাল কেভ ঘুরে দেখুন।
দুপুর: সৈকতে মধ্যাহ্নভোজের পরে কিছু সময়ের জন্য রিল্যাক্স করুন।
বিকেল: একটি আরামদায়ক স্পা সেশনে যান এবং ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলুন।
রাত্রিযাপন: আগের হোটেলেই থাকুন।
৬ষ্ঠ দিন: ঢাকা ফেরত যাত্রাশেষ দিনে, সকাল সকাল ফ্লাইট ধরার জন্য প্রস্তুত হন।
সকাল: বোরাকাই থেকে কাতিকলান বোট। কাতিকলান থেকে ম্যানিলা ফ্লাইট।
দুপুর: ম্যানিলা এয়ারপোর্টে ফিরে ঢাকা যাওয়ার ফ্লাইট ধরুন।
খরচঃ লাক্সারি ট্যুর এর জন্য আপনার আনুমানিক ১,৫০,০০০ টাকাই যথেষ্ট। বাজেট ট্যুরের জন্য ১,১০,০০০-১,১৫,০০০ টাকাতেই সম্ভব (আমাদের টাকার মানের উপর নির্ভর করছে পরবর্তীতে কেমন খরচ হবে)। তবে, যদি আপনি একসাথে ২টি দেশে ভ্রমণ করেন এবং ৪ জন ভ্রমণ সঙ্গী থাকেন, তাহলে প্রতি ব্যক্তির মোট খরচের ২৫% সাশ্রয় করা সম্ভব।
এই ভ্রমণ পরিকল্পনা অনুযায়ী, আপনি ফিলিপাইনের অন্যতম সেরা দুটি স্থান ম্যানিলা এবং বোরাকাই উপভোগ করতে পারবেন। প্রতিটি দিনকে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করলে আপনার ফিলিপাইন ভ্রমণ একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতায় পরিণত হবে।
উপসংহার
ফিলিপাইনস ভ্রমণ একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হতে পারে যা প্রকৃতি প্রেমী, অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয়, এবং ইতিহাস অনুরাগীদের জন্য উপযুক্ত। সমুদ্র সৈকত থেকে শুরু করে পর্বতমালা, শহরের ব্যস্ততা থেকে শুরু করে গ্রামীণ পরিবেশ—এই সব কিছুই আপনি এখানে উপভোগ করতে পারবেন।
আপনার ব্যাগ গুছিয়ে নিন এবং ফিলিপাইনের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রস্তুত হন!
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQs)
হ্যাঁ, ফিলিপাইন ভ্রমনের জন্য বাংলাদেশ বা অন্যন্য দেশের নাগরিকদের ফিলিপাইন ভিসা আবশ্যক।
লাক্সারি ট্যুর এর জন্য আপনার আনুমানিক ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকাই যথেষ্ট। বাজেট ট্যুরের জন্য ১ লক্ষ ১০ থেকে ১ লক্ষ ১৫ হাজারেই সম্ভব (আমাদের টাকার মানের উপর নির্ভর করছে পরবর্তীতে কেমন খরচ হবে)।
ম্যানিলা, বোরাকাই, চেবু, পালাওয়ান সব দেখতে হলে ১২-১৫ দিন হাতে রাখাই ভালো সেক্ষেত্রে ব্যয় একটু বাড়বে তাই বাজেটও একটু বাড়াতে হবে। মনে রাখতে হবে ফিলিপাইনে এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপে যেতে হলে আপনাকে বিমানে যেতে হবে তাই আগেই পরিকল্পনা করে ডমেস্টিক ফ্লাইটের টিকিট করে রাখুন। তবে ম্যানিলা ও বোরাকাই এর জন্য ৫ রাত ৬ দিনই যথেষ্ট।
ফিলিপাইন ভিসার বিস্তারিত এই লিঙ্ক এ।
সামাজিক মাধ্যমের লিঙ্ক সমূহঃ
ফেসবুক: 👆এখানে ক্লিক করুন👆
ইনস্টাগ্রাম: 👆এখানে ক্লিক করুন👆
টুইটার: 👆এখানে ক্লিক করুন👆
লিঙ্কডইন: 👆এখানে ক্লিক করুন👆
ইউটিউব: 👆এখানে ক্লিক করুন👆
ফিলিপাইন সম্পূর্ণ ট্যুর গাইডলাইন | Philippines Tour Guide | Dhaka to Philippines Tour | Dhaka to Manila । Boracay Island Tour Guide । Philippines Tour । ঢাকা থেকে ম্যানিলা । Philippines Visa

1 Comment
অনেক ব্লগ দেখেছি কিন্তু ফিলিপাইনের ডিটেইলস সহ এত সুন্দর ব্লগ কোথাও পাইনি। ধন্যবাদ RKS কে।